আজ শনিবার। ১৮ই মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ। ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ। ৯ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি। এখন সময় বিকাল ৩:১০

প্রতিবন্ধকতাও হার মেনেছে সাফিয়ার প্রবল ইচ্ছা শক্তির কাছে

প্রতিবন্ধকতাও হার মেনেছে সাফিয়ার প্রবল ইচ্ছা শক্তির কাছে
নিউজ টি শেয়ার করুন..

দুটি হাত-দুটি পা নেই। তারপরও থেমে নেই অদম্য কিশোরী সাফিয়া। বাবা-মায়ের কোলে চড়ে নবম শ্রেণির ছাত্রী সাফিয়া প্রতিদিন যায় স্কুলে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাও হার মেনেছে তার প্রবল ইচ্ছা শক্তির কাছে। লক্ষ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার।

সাফিয়ার স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতিতে স্কুলের পোশাক পরানোর পর চুলের পরিচর্যার কাজটাও সারেন মা হোসনে আরা খাতুন। তারপর শাফিয়াকে কোলে নিয়ে স্কুলের পথে রওয়ানা হন বাবা আজমল হোসেন।

সিলেট পিডিবি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সাফিয়া। দুটি হাত ও দুটি পা নেই জন্ম থেকেই। তাই তার সকল কাজের ভরসা বাবা-মাই। স্কুলেও তার জন্য বিশেষ চেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্কুলের পুরোটা সময় কাটে এই চেয়ারে বসেই। ছুটি হলে আবারো মা এসে কোলে করে নিয়ে যান বাসায়।

সাফিয়া বেগম বলে, স্কুলে শিক্ষকরা, বন্ধুরা সবাই অনেক সাহায্য করেন। সাফিয়ার মা হোসনে আরা খাতুন জানান, পড়াশোনায় খুব ভালো শাফিয়া।

শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে শুরুতে কোন স্কুলই ভর্তি নিতে চায়নি সাফিয়াকে। এখন সে এখন শিক্ষকদের চোখের মনি।

সাফিয়ার বাবা আজমল হোসেন জানান, বেশ কয়েকটি স্কুলে গেছি, তারা নিতে চায়নি। শেষে রাধারাণী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ওকে ভর্তি করে।

পিডিবি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ক্ষিতীন্দ্র কুমার দাশ বলেন, পাঁচজন শিক্ষার্থী যদি অংক করে দিতে পারে, তার মধ্যে সে একজন। সাফিয়াকে নিয়ে গর্বিত আমি।

অদম্য এই কিশোরী শুধু পড়াশোনায় নয়, কম্পিউটার চালনাতেও পারদর্শী। তার এগিয়ে চলাকে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবেই দেখছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

সাফিয়ার সহপাঠী ও বোন জানায়, সে সাথে থাকায় শাফিয়ার কোনো অসুবিধা হয়না। সহপাঠীরা জানায়, অন্যদের চেয়ে পড়াশোনায় অনেক ভাল শাফিয়া।

দুটো হাত না থাকায় আঁকতে সমস্যা হবে এজন্য বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হতে পারেনি। শুরুতে মন খারাপ হলেও এখন মানবিক বিভাগেই উচ্চ শিক্ষা শেষে শিক্ষক হবার স্বপ্ন দেখছে সাফিয়া।

সাফিয়া বেগম বলে, আমি তো স্বাভাবিক মানুষের মতো নই, তাই আমি একজন শিক্ষক হতে,আর ছাত্র-ছাত্রীদের মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তুলতে।

একমাত্র সন্তান সাফিয়াকে বিদেশে নিয়ে কৃত্রিম হাত-পা লাগাতে চান বাবা-মা। এজন্য সরকারি সহায়তা চান তারা।

নিউজ টি শেয়ার করুন..

সর্বশেষ খবর

আরো খবর