আজ শুক্রবার। ১৯শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ। ৬ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ। ৯ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি। এখন সময় রাত ১২:১৩

সুনামগঞ্জের ১১টি উপজেলায় সাতটিতেই নেই ফায়ার সার্ভিস স্টেশন

সুনামগঞ্জের ১১টি উপজেলায় সাতটিতেই নেই ফায়ার সার্ভিস স্টেশন
নিউজ টি শেয়ার করুন..

আশিস রহমান : রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিনিয়তই একের পর এক ঘটছে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। এতে জানমালের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছে সাধারণ মানুষ। সম্প্রতি ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় আগুনের আতঙ্ক এখন শুধু রাজধানীতে নয়, ছড়িয়ে পড়েছে দেশব্যাপী। যেখানে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলকে নতুন করে ভাবাচ্ছে সেখানে সুনামগঞ্জ পৌরশহরসহ সমগ্র জেলা জুড়েই পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল ও সরঞ্জামাদি সংকটে নাজুকভাবে চলছে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ও সিভিল ডিফেন্সের কার্যক্রম।

জেলার ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ও সিভিল ডিফেন্স বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সুনামগঞ্জের ১১টি উপজেলার ৭টিতেই কোনো ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নেই। তবে এই ৭টির সবকটিতেই ফায়ার সার্বিস স্টেশন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। এরমধ্যে দিরাই উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণের কাজ এখন পর্যন্ত ৯০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ৯৫ ভাগ, জামালগঞ্জ উপজেলায় ৯৫ ভাগ, শাল্লা উপজেলায় ৬০ ভাগ, ধর্মপাশা উপজেলায় ৬০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণের।

অন্যদিকে তাহিরপুর এবং দোয়ারাবাজার উপজেলায় জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে ও ই-টেন্ডার পাস হয়েছে। দোয়ারাবাজারে অধিগ্রহণকৃত জমির রেজিস্ট্রেশন কাজ চলছে। চলতি বছরের জুন মাসে জেলার সবকটি উপজেলায় ফায়ার সার্ভিভিস স্টেশন নির্মাণ কাজ শতভাগ সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে। বর্তমানে সুনামগঞ্জ সদর, ছাতক, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও জগন্নাথপুর এই ৪ উপজেলাতে ফায়ার সার্বিস স্টেশন থাকলেও বহুতল ভবনে কাজ করার মতো বিশেষ কোনো অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামাদি নেই। এছাড়াও জেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বিভাগের প্রায় ২০ ভাগ পদ শূণ্য রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ডুবুরি পদ শূণ্য থাকায় বিশেষ প্রয়োজনে সিলেট নির্ভর করতে হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সুনামগঞ্জ পৌরশহরের অধিকাংশ মার্কেটসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সরকারি/বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও মার্কেটগুলোতে অগ্নি নির্বাপণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। কোনো প্রকার অগ্নিনির্বাপণের সরঞ্জাম নেই পৌর শহরের মার্কেটগুলোতে। রয়েছে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা অভাব। যার ফলে যেকোনো মুহূর্তেই ঘটতে পারে ভয়াবহ অগ্নিদুর্ঘটনাসহ জানমালের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি। বাসাবাড়িসহ সরকারি/বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অনেকেই জানেন না ‘ফায়ার সেফটি’ সম্পর্কে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বিভাগ বলছে, প্রায় সবখানেই পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা থাকাসহ সচেতনতার অভাব রয়েছে। তবে জেলা শহরে অতি ঝুকিপূর্ণ কোনো ভবন নেই বলে জানিয়েছেন তারা। তাদের মতে জেলা শহরের সবগুলো মার্কেটসহ সরকারি/বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং ভবনগুলো স্বাভাবিক ঝুকির তালিকায় আছে। তবে স্বাভাবিক ঝুঁকির তালিকায় থাকলেও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নবনির্মিত সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল ভবন, জেনারেল হাসপাতাল, পাইওনিয়ার হাসপাতাল, সুরমা হাসপাতাল, লন্ডন প্লাজাসহ বেশকয়েকটি ভবনে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা পর্যাপ্ত পরিমাণে নেই।

সুনামগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক জাবেদ হোসেন মোহাম্মদ তারেক বলেন, ‘শহরের সকল সরকারি/বেসরকারি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা তদারকি করতে মাঠে পর্যায়ে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। ৬ তলার নিচের সবগুলো ভবনের ছাড়পত্র দেয় পৌরসভা তবে সেখানেও আমাদের একজন প্রতিনিধি রয়েছে। এছাড়া ৭তলা থেকে শুরু করে সকল বহুতল ভবনের ছাড়পত্র সরাসরি আমরা দিয়ে থাকি। আমাদের জনবল ও সরঞ্জামাদি সংকট কাটিয়ে উঠতে পারলে পর্যাপ্ত পরিমাণে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ফায়ার সেফটির বিষয়ে আমাদের মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়েছে। প্রতি মাসেই আমরা মাঠ পর্যায়ে গিয়ে মহড়া, গণসংযোগ ও সার্ভে করে থাকি। গত মাসেও জেলার ২০টি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন শেষে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এপ্রিল মাসের কর্মপরিকল্পনায় আরো ২৪টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

নিউজ টি শেয়ার করুন..

সর্বশেষ খবর

আরো খবর