আজ রবিবার। ৩রা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ। ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ। ২১শে শাবান, ১৪৪৫ হিজরি। এখন সময় বিকাল ৩:৫৬

খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে : বাংলাদেশ ন্যাপ

খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে : বাংলাদেশ ন্যাপ
নিউজ টি শেয়ার করুন..

দেশে খাদ্য, পণ্য যা-ই বাজারে ভোক্তাদের কাছে আসছে সবকিছুতেই নকল, ভেজালের ছড়াছড়ি বলে মন্তব্য করে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, নিরাপদ খাদ্য, খাদ্যে ভেজাল, মাছ মাংশে বিভিন্ন ক্যামিকেল ও ফরমালিন মিশ্রণ, ক্যামিকেল দিয়ে ফলমুল পাকানোসহ মানব বিধ্বংসী কর্মকান্ড চলমান থাকলেও সমাজের একটি বড় অংশ এখানে নিরব।

তারা বলেন, খাদ্যে ভেজালের কারনে অকালে ক্যান্সার, ডায়বেটিক, কিডনী বিকল, স্থুল স্বাস্থ্য, হ্দৃরোগ, মুত্রনালি ও পাকস্থলীর পীড়াসহ নানা রকমের মানব ঘাতক রোগে পুরো জাতি যেন রোগাক্রান্ত। আর জাঙ্ক ফুডের নামে নানা রকম ফাস্ট ফুডের কারনে মেধাহীন আগামী প্রজন্ম তৈরী হচ্ছে।

শনিবার গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে তারা আরো বলেন, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার বদলৌতে বর্তমানে দেশের অধিকাংশ মানুষই এখন নকল ও ভেজালের এ সমস্ত খবর সর্বত্র পৌঁছে যাচ্ছে। তবে খাদ্যে ভেজালকারী ও অসাধু ব্যবসায়ীরা যেভাবে সংগঠিত ও শক্তিশালী সিন্ডিকেট সেভাবে ভোক্তারা সংগঠিত নয় বিধায় এ সমস্ত ব্যবসায়ীরা মানুষকে জিম্মি করে জনগনের পকেট কাটছে। আর ছাত্র ও যুব সমাজকে দেশ ও জাতিগঠনমুলক কাজের পাশাপাশি খাদ্য, পণ্যে নকল, ভেজাল, গ্রাহক হয়রানি, প্রতারনা, নিরাপদ খাদ্য, মাছ মাংশে ফরমালিন মিশ্রণ এবং ক্যামিকেল দিয়ে ফলমুল পাকানো বন্ধে সামাজিক আন্দোলনে সম্পৃক্ত করা গেলে জাতিকে এ মরার দশা থেকে বাঁচানো সম্ভব। তাই এখন সময় এসেছে জেগে উঠার এবং তৃনমুল পর্যায়সহ সকল স্তরে অনিরাপদ খাদ্য, ফাস্ট ফুডের নামে জাঙ্ক ফুড, নকল, খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে কঠিন সামাজিক প্রতিরোধ ও দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

ন্যাপ নেতৃদ্বয় বলেন, বাংলাদেশে পণ্যে ভেজাল মিশ্রণের অন্যতম প্রধান কারণ হলো, অতি মুনাফা অর্জন করার মানসিকতা। এদেশের বিপুল সংখ্যক মানুষই তার অব্যাসগত দিক থেকে মনে করে, যেভাবেই হোক না কেন যত দ্রুত অর্থ উপার্জন করা যাবে,ততই ধনী হওয়া যাবে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংস্কৃতি নানা কারণে প্রশ্নবিদ্ধ। এ দেশের রাজনীতিতে পরিচ্ছন্নতা ও জবাবদিহিতা লক্ষণীয় ভাবে কম। এর বিরূপ প্রভাব জনজীবনের সর্বস্তরেই পড়েছে। ফলে খাদ্য ও পণ্যদ্রব্যে যে বিষ ঢালাওভাবে মেশানো হচ্ছে এবং তা বন্ধ করার কার্যকর পদক্ষেপ খুবই ক্ষীণ।

তারা বলেন, সারাদেশে ভেজাল-নকল, নিম্নমানের মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ নির্বিঘ্নে বিক্রয় হচ্ছে। নিরাময় ও জীবনরক্ষাকারী ভেজাল ঔষধ যেন জীবনবিনাশী পয়জন এ পরিণত হয়েছে। ঔষধ বাজারে কোনটি আসল আর কোনটি নকল তা অনেক সময় দোকানীরাও চিনতে পারে না।

নেতৃদ্বয় আরো বলেন, এই জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদির নীতি নির্ধারণে সরকারের দায়িত্ব ও ভূমিকা অনেক। তাই সরকার ও নীতি নির্ধারকদের এতটুকু সুদৃষ্টি খাদ্যে ভেজাল ও বিষ-সংস্কৃতির ভয়াবহতা থেকে জনগণকে রক্ষা করতে পারে। কঠোর আইনের মাধ্যমেও তা অনায়াসে করা যায়। খাদ্যে ভেজাল ও বিষ প্রয়োগ হত্যাসম অপরাধ বিধায় এর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়া সমীচীন। এছাড়া অপরাধের ধরন অনুযায়ী যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা জরিমানার বিধান থাকলেও প্রয়োগের নজির নেই।

ন্যাপ চেয়ারম্যান ও মহাসচিব বলেন, ভেজালকারীদের মাঝেমধ্যে জরিমানা হয়, কিন’ তা গুরু অপরাধে লঘু দণ্ড হওয়ায় একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সাজা পেয়েও লিপ্ত হয় ভেজালকর্মে। এ সম্পর্কিত কঠিন আইন বাস্তবে প্রয়োগের উদ্যোগ নিতে পারে সরকারই। বিশেষত মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক নির্দেশনার মাধ্যমে জরুরিভিত্তিতে প্রয়োগ হতে পারে এরূপ আইন। অনুরূপ কঠোর শাস্তির দু’একটি উদাহরণে এ ঘৃণ্য সংস্কৃতি বন্ধ হবে বলে বিশ্বাস। মানববিধ্বংসী বিষ ও ভেজাল প্রতিরোধে অনুরূপ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ একদিকে সরকারের জন্য প্রশংসনীয় হবে, অন্যদিকে দেশ ও জাতি একে তাদের জন্য সর্বাধিক কল্যাণকর উদ্যোগ হিসেবে স্মরণে রাখবে।


নিউজ টি শেয়ার করুন..

সর্বশেষ খবর

আরো খবর