আজ শনিবার। ২০শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ। ৭ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ। ১০ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি। এখন সময় রাত ১১:৩৩

দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাউন্সিলে মিটিং না করেই প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগত সফরে : রিজভী

দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাউন্সিলে মিটিং না করেই প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগত সফরে : রিজভী
নিউজ টি শেয়ার করুন..

বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাড. রুহুল কবির রিজভী ‘ফণি’র ন্যায় একটি বড় দুর্যোগ মোকাবেলায় উপকুলীয় এলাকাসহ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের আগাম প্রস্তুত থাকার আহবান জানিয়েছেন।

তিনি আজ ০২ মে ২০১৯ ,বৃহস্পতিবার, সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রেসব্রিফিংকালে এ আহ্বান জানান রিজভী ।

প্রেসব্রিফিং এ বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এই দুর্যোগ মোকাবেলায় জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাউন্সিলের সভা না করে ব্যাক্তিগত সফরে প্রধানমন্ত্রীর লন্ডন সফরে যাওয়ার সমালোচনা করেন তিনি ।


বিএনপি’র প্রেসব্রিফিং এ পঠিত লিখিত বক্তব্য-

“সুপ্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
আস্সালামু আলাইকুম। সবাইকে জানাচ্ছি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা।
অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা নিয়ে সুপার সাইক্লোনে পরিণত হচ্ছে সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বাংলাদেশের উপকূল থেকে ‘ফণি’র দূরত্ব ধীরে ধীরে কমে আসছে। অতি প্রলয়ঙ্কারী ফণি’র আকার বাংলাদেশের আয়তনের চেয়েও বড়, আবহাওয়াবিদরা বলছেন- উপকূলে উঠে আসার সময় ফণি’র গতি হতে পারে ঘণ্টায় ২১০ কিলোমিটারের বেশী। বাংলাদেশের খুলনা ও তৎসংলগ্ন উপকুলের দিকে ধাবিত ঘুর্ণিঝড় ‘ফণি’র প্রতিনিয়ত শক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ আশঙ্কা মুক্ত নয়, বরং বিপজ্জনক চেহারা নিয়ে ফণি বাংলাদেশের উপকুলের দিকে ধেয়ে আসছে। এভাবে যদি উপকূলের দিকে ফণি ধেয়ে আসে তবে তার বিষাক্ত ফণায় অকল্পনীয় তান্ডবলীলা চালাবে। যা ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের প্রলয়কান্ডের চেয়ে ভয়াবহ হতে পারে। ওই সাইক্লোন চট্টগ্রাম বিভাগের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চল লন্ডভন্ড করে দিয়েছিল। ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তরের বার্তায় বলা হচ্ছে, বঙ্গোপসাগরে গত ৪৩ বছরে এপ্রিল মাসে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে ‘ফণি’ সবচেয়ে শক্তিশালী আর ধ্বংসাত্মক। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের ঘোরতর আশঙ্কা, উড়িষ্যা উপকূলে আছড়ে পড়ার পরই ফণি বাঁক নিয়ে সাতক্ষীরা ও সুন্দরবন অঞ্চলের ওপর আঘাত হানবে ‘আইলা’র চাইতে ভয়াল রুপ নিয়ে।
সাংবাদিক বন্ধুরা, এক প্রলয়ঙ্ককারী দুর্যোগের আলামত সুস্পষ্ট হলেও সরকার তা মোকাবেলা করতে কোন প্রস্তুতি গ্রহণ করেনি। তাই এই মূহুতে সকলকে পুর্ণ সতর্ক হতে হবে। বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিতে হবে। সমগ্র উপকূল অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বিমান, তেল রিজার্ভার, বিদ্যুৎকেন্দ্র, ঘুর্নিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র-এসব নিরাপদ করার এখনি সময়।
বন্ধুরা,
যেকোন বড় দুর্যোগ-দুর্বিপাক মোকাবেলায় “জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাউন্সিল” আছে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে। উনি মিটিং না করেই বিদেশ চলে গেলেন। কোন আন্ত:মন্ত্রণালয় সভা নেই। উপকুলীয় জেলা পর্যায়ে জরুরী সভা নেই। তিন বাহিনী, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সমুহ, গোয়েন্দা সংস্থা, কোস্টগার্ড, আনসার এদের নিয়ে কোন সভা করা হয়নি। উদ্ধার কাজে কোন প্রস্তুতিই গ্রহণ করা হয়নি।
সুহৃদ সাংবাদিকবৃন্দ,
উদ্ধারকর্মী, উদ্ধারযান, খাবার, পানি এসবের কোন প্রস্তুতিই দেখা যাচ্ছে না। বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে সফলতার সাথে সরকার পরিচালনা করেছে। কিন্তু বিপদ দেখলে পালিয়ে যায়নি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ৪ বার প্রধানমন্ত্রীর শপথ নিয়ে দেশসেবা করেছেন। পুরো শাসন পিরিয়ডে জাতীয় দুর্যোগ-দুর্বিপাকে প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তৎপর থাকতেন। মিটিংয়ের পর মিটিং, নির্দেশনা, এমনকি রাতভর সজাগও থেকে উদ্ধারকর্মে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের মনিটরিং করতেন।
২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া গেলেন চীনে রাষ্ট্রীয় সফরে। এমন সময় খবর পেলেন জেএমবির সিরিজ বোমা হামলার। সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে আসেন। সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
দেশ শাসনে কর্তৃত্ববাদী কর্তৃপক্ষ থাকলে জনকল্যাণমূলক কোন কাজ হয় না। জনগণের প্রতি ভোটারবিহীন সরকারের কোন দায়-দায়িত্ব থাকে না। দেশের মানুষ বাঁচলো কি মরলো তাতে স্বৈরাচারী সরকারের কোন যায়-আসে না। দেশের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। তাই দুর্যোগ-দূর্বিপাকে সরকারের অমনযোগিতার কারণে মানুষ দুুর্বিষহ অবস্থার মধ্যে পড়ে। জীবন-সহায়-সম্বল নিশ্চিহ্ন হওয়ার উপক্রম হয়। কারণ এধরণের সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে জনগণের অংশগ্রহণ থাকে না। অবৈধ ক্ষমতাসীনরা প্রাকৃতিক দুর্যোগে পতিত হওয়ার সম্ভাবনাকে প্রতিহত করতে আগাম কোন প্রস্তুতি গ্রহণ করে না। লুট ও দখলের প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ বর্তমান সরকারের আমলে চারিদিকে শুধু মৃত্যুরই ছবি। আগুনে পুড়ে, ভবন ধ্বসে, সড়কে-মহাসড়কে বেপরোয়া যানবাহনের চাকায় প্রতিনিয়ত শুধু লাশেরই সারি। কারণ সর্বত্র বেআইনী দ্স্কুৃতিকারিদের আধিপত্যই বিরাজমান। নারী ও শিশু নির্যাতনের নারকীয় তান্ডবে সারাজাতি বেদনার্ত ও স্তম্ভিত। তাই প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপদ্রুত মানুষের জীবনের নিরাপত্তা বিধানে সরকারের ভ্রুক্ষেপহীন থাকাটাই স্বাভাবিক।
সাংবাদিক বন্ধুরা,
আমরা ‘ফণি’র ন্যায় একটি বড় দুর্যোগ মোকাবেলায় উপকুলীয় এলাকাসহ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের আগাম প্রস্তুত থাকার আহবান জানাচ্ছি। তারা যেন সকলেই উদ্ধারকর্মীর মতো প্রস্তুত থাকে। ঝড় আঘাত হানার পূর্বেই উপকুলীয় অসহায় মানুষকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেয়ার জন্য দলের নেতাকর্মীদের আহবান জানাচ্ছি। তারা নিজেদের নিরাপত্তাসহ অন্যদের নিরাপত্তা বিধানে সচেষ্ট থাকবেন বলে আমরা বিশ^াস করি। আমরা উপকুলীয় এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীসহ উদ্ধারকর্মীদের প্রস্তুত থাকার জন্য দলের পক্ষ থেকে আহবান জানাচ্ছি।
ধন্যবাদ সবাইকে। আল্লাহ হাফেজ।”

নিউজ টি শেয়ার করুন..

সর্বশেষ খবর

আরো খবর