আজ বৃহস্পতিবার। ১৮ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ। ৫ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ। ৮ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি। এখন সময় রাত ১১:৩২

৫ সন্তানের জননীর জায়গা এখন গোয়ালঘরে!

৫ সন্তানের জননীর জায়গা এখন গোয়ালঘরে!
নিউজ টি শেয়ার করুন..

৯০ বছর বয়সী অন্ধ এক বৃদ্ধার আশ্রয় হয়েছে গোয়ালঘরে। গত তিন বছর ধরেই মশার কামড় খেয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করছেন তিনি।

শুধু তাই নয়, নিয়মিত জুটছে না তার খাবার। এভাবেই বিনাচিকিৎসায় গোয়ালঘরে জীবনের বাকিটা সময় পার করছেন এ বৃদ্ধা।

বিপদের শেষ ধাপটা শুরু হয় সরবানুর তখনই। নিজে একা একা চলতে পারেন না, বিছানাতেই সবকিছু সারতে হয় তাই তাকে। সামর্থ্যহীনতা আর অপারগতার মিশেলে ছেলেরা একদিন মাকে রেখে আসেন পাশের পরিত্যক্ত গোয়ালঘরে, একটি ভাঙা চৌকিতে।

জরাজীর্ণ ওই গোয়ালঘরেই সরবানুর আজ প্রায় তিন বছর। আধা পেট আর বিনা চিকিৎসায় তার প্রতিদিন।

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার বাঘড়ি গ্রামের ঘটনা এটি। আকলিমা আক্তার সেলিমা তার প্রতিবেশী। তিনি বলেন, ‘মশার কামড়, গরম কিংবা শীতে এখানেই পড়ে থাকেন বৃদ্ধ সরবানু। ঘরটি বসবাসের অযোগ্য। মানুষটা অন্ধ, অচল। তার সন্তানরা সচ্ছল নন; কিন্তু মায়ের সেবা তো করতে পারেন। তা না করে দুর্গন্ধে বিরক্ত হয়ে ওই ঘরে রেখে এসেছেন তাকে।’

পাঁচ সন্তানের জননীর ঠাঁই কেন গোয়ালঘরে হলো- এ প্রশ্নের জবাবে আকলিমা জানান, ‘সরবানুর সন্তানরা সচ্ছল নন। নিজেদের পরিবার চালাতেই হিমশিম খান তারা।

তিনি বলেন, ১০ বছর আগে একদিন মাটিতে পড়ে পায়ে ব্যথা পান সরবানু। অর্থের অভাবে ছেলেরা উন্নত চিকিৎসা করাতে পারেননি তার। ধীরে ধীরে অচল হয়ে পড়েন তিনি। একদিন পুরোপুরি অন্ধও হয়ে যান। যে কারণে বিছানাতেই প্রাকৃতিক কর্ম সারতে হয় তাকে। এমন অথর্ব বৃদ্ধা মাকে ছেলেরা একদিন পাশের পরিত্যক্ত গোয়ালঘরের একটি ভাঙা চৌকিতে শুইয়ে দিয়ে আসেন। সেই থেকে তিনি এখানে থাকছেন।’

এসব বলে কান্না জর্জরিত কণ্ঠে আকলিমা ক্ষোভ প্রকাশের সুরে বলেন, ‘টাকা-পয়সা না দিয়ে হোক, মায়ের সেবা তো করতে পারেন তারা। তা না করে বিরক্ত হয়ে গোয়ালঘরে রেখে এসেছেন মাকে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোহাগ হাওলাদার বলেন, ‘এ বৃদ্ধার বিষয়ে আমি জানতে পেরে দেখতে গিয়েছিলাম তাকে। তার স্মরণশক্তি ভালো। বংশীয় পরিবারের সন্তান তিনি। কিন্তু অশিক্ষা বা অসচ্ছলতা যেটাই বলুন, তার সন্তানদের অবহেলা ও অবজ্ঞার জন্যই আজ তার এ দুরবস্থা। পিঁপড়ার কামড়ে জর্জরিত হয়ে সেখানে দিন কাটাচ্ছেন। যখন পায়ে ব্যথা পেয়েছিলেন, তখন যদি মায়ের প্রতি ভালোবাসার টানে সন্তানরা সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যেতেন, চিকিৎসা করাতেন, তাহলে এ দুর্ভোগ হতো না তার।’

ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক এরই মধ্যে জেনেছেন বিষয়টি। সরকারি সফরে অস্ট্রেলিয়ায় এখন তিনি। সেখান থেকেই নির্দেশনা দিয়েছেন- শিশুসদনে যেন থাকার ব্যবস্থা করা হয় সরবানুর।


নিউজ টি শেয়ার করুন..

সর্বশেষ খবর

আরো খবর