আজ বৃহস্পতিবার। ১৮ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ। ৫ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ। ৮ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি। এখন সময় রাত ১১:০৩

যান্ত্রিক শহরে,হারিয়ে যাচ্ছে মানবপ্রেম!

যান্ত্রিক শহরে,হারিয়ে যাচ্ছে মানবপ্রেম!
নিউজ টি শেয়ার করুন..

জাহিদ হাসান :

ইট পাথরে ঘেরা আর কোলাহলময় অন্যতম নগরী হয়ে উঠেছে বন্দর নগরী চট্টগ্রাম। ঢাকার আদলে গড়ে উঠছে চট্টগ্রাম এমটাই বলা চলে। জীবন ও জীবিকার তাগিদে ছুটে চলেছেন অবিরাম শহরের অলিগলিতে।গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলা সুদূর প্রসারি নদী রাখালদের সুমধুর কন্ঠের গান।গভীর মিতালি মানুষে মানুষে আত্মার বন্ধন ছেড়ে মানুষ ছুটছে শহরের দিকে।

কর্ম এবং কর্মস্থানের পিছে হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছে । তাই ত শহরের মুখি মানুষগুলোর দু দন্ড সময় নেয় ক্লান্ত পরিশ্রান্ত শহরের মানুষগুলো।বিষন্ন এই শহরে রমজান মাস এলেই বিকাল ৫টা থেকে সবার ব্যস্ততা বরড়ে যায় ইফতারী নিয়ে । কেউ বিক্রয় করছেন, কেউ ক্রয় করছেন। কত বাহারী আয়োজনে কত মজাদার ইফতার করবেন সেই প্রস্তুতিতে সবাই মশগুল।আসে পাশে কিছু অসহায়, অভুক্ত এবং ক্ষুদার্ত মানুষ তাদের পানে হা করে তাকিয়ে আছে কিন্তু সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করার সুযোগ এবং সময় কারো নেয়।

কেউ দেখেও দেখেনা। আমরা দিন দিন যান্ত্রিক ও নিষ্প্রান হয়ে পড়ছি তাই আজকাল কারো প্রতি মায়ামমতার জন্ম হয়না। নিজেকে নিয়ে মহা ব্যস্ত সবাই। চট্টগ্রাম শহরের অলি-গলি, হাটবাজার, মোড় এবং মেইন পয়েন্টে গরীব, অসহায়,অভুক্ত পথচারীদের মাঝে কেউ পাশে দাড়ানের মত নেই। ১৬ কোটি জনসংখ্যা নিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে একটি।

বিশ্ব ব্যাংকের মতে, বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্যের হার ২০১৬ সালে ১২.৯ শতাংশে নেমে এসেছে।বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশের মুখ্য উন্নয়নের প্রশংসা করেন, যেখানে ১৯৯১ সালের ৪৪.২ শতাংশ থেকে দারিদ্র্যের এই হার ২০১০ সালে ১৮.৫ শতাংশে নেমে এসেছে।বাংলাদেশ তার দারিদ্র্যের হার কমাতে অভাবনীয় অগ্রগতি অর্জন করছে এবং বিশ্বব্যাংকের মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে চরম দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশের বড় সুযোগ রয়েছে।

এসব সুযোগের নাগাল পেতে সময় সাপেক্ষ হলেও আশার কথা এই সুবিধা বঞ্চিতরা শস্তির নিঃস্বাস ফেলতেই পারেন। দেশের এখনো অনেক মানুষের হাহা কার কিংবা আর্তনাদ শুনার প্রয়োজনই বা কজন বোধ করে। তবে এসব অদেখা সংকট থেকে মুক্তি পেতে মানুষ মানুষে সম্প্রিতি গড়ে তুলতে হবে। তবেই প্রকৃত মানুষ হিসেবে আমরা স্বার্থকতা লাভ করতে পারবো। দিন শেষে শহরের যান্ত্রিকতার ভার আমাদের চোখে মুখে দেখা দিলেও তা মানুষে মানুষে বিদ্বেষ ও প্রতিহাংসা পরায়ন হতে হবে।এমন টায় কামনা করতে হবে। যান্ত্রকতার ভারে সভ্যতা সংস্কৃতির যেন মৃত্যু না ঘটে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে ।

নিউজ টি শেয়ার করুন..

সর্বশেষ খবর

আরো খবর