আজ শনিবার। ২৫শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ। ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ। ১৬ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি। এখন সময় ভোর ৫:২৮

শেরপুরে ফুটপাতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিক্রি হচ্ছে ইফতার সামগ্রী

শেরপুরে ফুটপাতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিক্রি হচ্ছে ইফতার সামগ্রী
নিউজ টি শেয়ার করুন..

জাহিদুল খান সৌরভ, শেরপুর :

শেরপুরের বিভিন্ন ফুটপাতে চলতি রমজানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে যত্র-তত্র বিক্রি হচ্ছে হরেক রকমের ইফতার সামগ্রী। বিকেল হলেই শহরের বিভিন্ন রাস্তার পাশে ফুটপাতে গড়ে ওঠে অস্থায়ী ইফতারের দোকান। ওইসব দোকানে ইফতার সামগ্রী বিক্রি হলেও খাবারের ওপর কোনো ঢাকনা নেই। এতে খাবারের ওপর যেমন ধুলাবালি পড়ছে, তেমনি যুক্ত হচ্ছে মাছি।

এছাড়া বাসি খাবারও বিক্রি করা হচ্ছে টাটকা খাবার হিসেবে। অন্যদিকে ওইসব খোলা ও বাসি খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন রোজাদারসহ অনেকেই। অন্যদিকে ওই বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ বিভাগসহ নজর নেই সংশ্লিষ্টদের।

শেরপুরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শহরের খরমপুর, নতুন বাস টার্মিনাল, নিউমার্কেট মোড়, খোয়ারপাড়, কলেজ মোড়, চাপাতলী, নবীনগর, অষ্টমীতলা, শেখহাটি, তাতালপুর, আখেরেরবাজার ও কুসুমহাটি বাজারসহ ফুটপাতে অন্তত: অর্ধশতাধিক ইফতার সামগ্রীর অস্থায়ী দোকান রয়েছে। সদর উপজেলার বিভিন্ন বাজারে বিকেল গড়ালেই গড়ে ওঠে অসংখ্য ইফতার সামগ্রীর দোকান। এছাড়াও জেলা শহরের অলি-গলতে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ইফতার সামগ্রীর দোকান।
অনুসন্ধানে জানা যায়, রোজা এলেই ইফতার সামগ্রী বিক্রির জন্য এক শ্রেণির মৌসুমী ব্যবসায়ীর আবির্ভাব ঘটে, যারা রাস্তার দু’পাশে ফুটপাতজুড়ে বসেন ইফতার সামগ্রী নিয়ে। আর ইফতার সামগ্রীর আকর্ষণ বাড়াতে আলুর চপ, বেগুনী, পিঁয়াজুতে ব্যবহার করা হয় রঙ।
৯ মে বৃহস্পতিবার খরমপুর মোড়ে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, জেলা শহর ও শহরের উপকণ্ঠে সড়কের পাশে বা ফুটপাতে বসা দোকানগুলোতে ইফতার সামগ্রী টেবিলে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে খিচুড়ি, জিলাপি, পিঁয়াজু, বেগুনি, চপ, নিমকি, বুন্দি ও সালাদসহ নানা রকমের খাবার। এমনকি খেজুর ও আমও বিক্রি হচ্ছে সড়কের পাশে।

ওইসব ইফতার কতুটুকু স্বাস্থ্যকর সেদিকে কারো নজর নেই। সরেজমিনে গেলে কথা হয় কুসুমহাটি বাজারের ইফতার বিক্রেতা আরশাদ আলীর সাথে। তিনি বলেন, প্রছরই একটু বাড়তি ইনকামের জন্য রোজার মাসে ইফতার বিক্রি করি। গত বছরের তুলনায় এ বছর বিক্রি একটু বেশি। আশা করছি সামনে আরওবিক্রি বাড়বে। খরমপুর মোড়ে ইফতার বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, বাজারে অনেক দোকানদার ইফতার বিক্রি করে।তাই আগের তুলনায় এ বছর বাজার তেমন ভালো যাচ্ছে না। তবে আর কিছু দিন পর বিক্রি একটু বাড়তে পারে।

অন্যদিকে কোনো কোনো দোকানি আগের দিনের থেকে যাওয়া ইফতারের খাবারের সঙ্গে পরের দিনের ইফতার মিলিয়ে টাটকা খাবার হিসেবে বিক্রি করছেন। তবুও ওইসব দোকানিদের দম ফেলার সুযোগ নেই। রয়েছে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। ক্রেতাদের অধিকাংশই মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ। খাবার বাসি ও অস্বাস্থ্যকর জেনেও কিনছেন অনেক ক্রেতা। দামে একটু সস্তা হওয়ায় টাকা দিয়ে কিনেও অস্বাস্থ্যকর ও বাসি খাবার খেতে যেন বাধ্য হচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষেরা।

ওই বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ বিভাগসহ স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, রমজানে ভেজালমুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত ইফতার সামগ্রীসহ অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী বিক্রয় নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নজরদারীর পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে কনজ্যুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের শেরপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক হাকিম বাবুল উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, রমজানে ভেজালমুক্ত ও স্বাস্থসম্মত খাদ্যসামগ্রী নিশ্চিত করতে বাজার মনিটরিংয়ের প্রয়োজন থাকলেও তা মোটেও দেখা যাচ্ছে না। মার্কেটিং বিভাগ ও ব্যবসায়ীদের সংগঠনের তরফ থেকেও দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ নেই। ফলে ক্রেতাসাধারণকে প্রতারিত হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্য ঝুঁকির দিকেও অগ্রসর হতে হচ্ছে।


নিউজ টি শেয়ার করুন..

সর্বশেষ খবর

আরো খবর