আজ শনিবার। ২৫শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ। ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ। ১৬ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি। এখন সময় রাত ৪:০৬

পারিবারিক গোরস্থানে চিরনিদ্রায় ‘অগ্নিবীর’ সোহেল

পারিবারিক গোরস্থানে চিরনিদ্রায় ‘অগ্নিবীর’ সোহেল
নিউজ টি শেয়ার করুন..

বাড়ির আঙিনার এক কোণে বছর তিনেক আগে যত্ন করে একটি শিমুল গাছ লাগিয়েছিলেন সোহেল রানা। ছুটিতে বাড়িতে এলেই তার যত্ন পেতো গাছটি। সেই শিমুল ছায়াতেই শায়িত হয়েছেন বনানীর অগ্নিবীর সোহেল।

মঙ্গলবার বিকেলে মরদেহ নিজ গ্রাম কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার চৌগাঙ্গা ইউনিয়নের কেরুয়াইলায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক গোরস্থানে সমাহিত করা হয়।

এর আগে বেলা ১১টায় ফায়ার সার্ভিস সদর দফতরে সোহেল রানার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের মহাপরিচালকসহ সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সোহেল রানার পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। সেখান থেকে সোহেল রানাকে চোখের জলে বিদায় জানান সহকর্মীরা।

সোহেলের মা, বাবা, ভাইবোন ও স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে এলাকার পরিবেশ। ছেলের কফিন আঁকড়ে মা হালিমা খাতুনের বিলাপ, ছোট দুই ভাই রুবেল ও দেলোয়ারের কান্না, বড় বোন সেলিনার আহাজারি আর নির্বাক বাবা নূরুল ইসলামের বোবা কান্না ছুয়ে যায় সবাইকে। সোহেলকে দেখতে আসা অন্যদের চোখেও তখন জল।

সেখান থেকে বিকাল ৫টা ৩৫ মিনিটে সোহেল রানার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় চৌগাংগা পুরান বাজার সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা সংলগ্ন খোলা মাঠে। সেখানে ৫টা ৪০ মিনিটে হয় সোহেলের দ্বিতীয় ও শেষ নামাজে জানাজা। জানাজার আগে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সশ্রদ্ধ অভিবাদন জানান তাদের অগ্নিবীরকে।

চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে সোহেল রানা ছিলেন পরিবারের দ্বিতীয় সন্তান। তিনি ছিলেন অবিবাহিত। ২০১০ সালে চৌগাঙ্গা শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস এবং ২০১৪ সালে করিমগঞ্জ কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন।

২০১৫ সালের ৫ আগস্ট তিনি ফায়ারম্যান হিসেবে ফায়ার সার্ভিসে যোগদান করেন। তার প্রথম কর্মস্থল ছিল মুন্সীগঞ্জ কমলাঘাট নদী ফায়ার স্টেশন। সর্বশেষ তিনি কুর্মিটোলা ফায়ার স্টেশনে কর্মরত ছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ২৫ বছর।

নিউজ টি শেয়ার করুন..

সর্বশেষ খবর

আরো খবর