আজ রবিবার। ৩রা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ। ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ। ২১শে শাবান, ১৪৪৫ হিজরি। এখন সময় বিকাল ৩:১৬

দলীয় সিদ্ধান্তেই সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেইনি : মির্জা ফখরুল

দলীয় সিদ্ধান্তেই সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেইনি : মির্জা ফখরুল
নিউজ টি শেয়ার করুন..

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, দলীয় সিদ্ধান্তেই সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি শপথ নেননি । একই সঙ্গে তিনি সময় চেয়ে স্পিকারের কাছে কোনো আবেদনও করেননি বলে জানিয়েছেন ।

মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে মানবাধিকার সংগঠন ‘আওয়াজ’ আয়োজিত ‘উন্নয়নের মৃত্যুকূপে জনজীবন/নুসরাত একটি প্রতিবাদ’ শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা জানান।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে আমি নাকি সময় চেয়ে আবেদন করেছি। আসলে আমি কোনো চিঠি দেইনি। সময়ও চাইনি। এটাও আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত। এটা আমাদের কৌশল।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকারের সঙ্গে কোনো সমাঝোতা হয়নি ।সমঝোতা করলে অনেক আগেই করতেন।বেগম খালেদা জিয়া সমঝোতা করলে এখন দেশের প্রধানমন্ত্রী থাকতেন। তিনি কখনোই নীতির প্রশ্নে আপস করেননি।

তিনি বলেন, ৩০ ডিসেম্বর কোনো নির্বাচন হয়নি প্রহসন হয়েছে। খুব খারাপ সিদ্ধান্ত বলে মনে করি না। আমাদের সুযোগ ন্যূনতম কাজে লাগাতে চাই। সময়ের প্রয়োজনে অনেক কিছু হয়। সময় ঠিক করে দেবে আমাদের সিদ্ধান্ত ভুল না ঠিক।

তিনি বলেন, একটি গণমাধ্যম গতকাল আমার সঙ্গে কথা বলেছে। আমি যে বক্তব্য দিয়েছি সেটি ছেপেছে। আবার এও লিখেছে যে, আমি শপথ নিতে পারি। এটিকে আপনি কি বলবেন? হয় অজ্ঞতা না হয় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
শপথ প্রশ্নে সরকারের সঙ্গে বিএনপির কোনো সমঝোত হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের সঙ্গে কোনো আপস কিংবা সমঝোতার যে কথা বলা হচ্ছে, সেটির প্রশ্নেই ওঠে না। সেটি যদি হতো, তবে কিছুদিন আগেও আমার নামে নতুন করে যে মামলা দেয়া হয়েছে সেটি নিশ্চয়ই হতো না। আমাদের কেন্দ্র থেকে শুরু করে তৃণমূলের নেতাদের বিনাবিচারে জেলে থাকতে হতো না।

সংসদে যোগ দেয়ার যুক্তি হিসেবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ন্যূনতম সুযোগ কাজে লাগাতেই সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। সংসদে, সংসদের বাইরে- সব জায়গায় প্রতিবাদের সুযোগ কাজে লাগাতে আমাদের এ সিদ্ধান্ত।

দানবকে পরাজিত করতেই বিএনপির এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা সংসদে, সংসদের বাইরে সরকারের সব অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাব। আপনারা দেখেছেন, গতকাল শপথ নিয়েই আমাদের একজন এমপি (হারুন-উর রশিদ) সংসদে গিয়ে কথা বলেছেন, গণতন্ত্রের মা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

বিদেশিদের চাপে বিএনপি সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নে দলটির মহাসচিব বলেন, না, বিদেশিদের কাছ থেকে আমাদের ওপর কোনো চাপ নেই। আমরা তাদের সঙ্গে চলমান রাজনীতি নিয়ে নিয়মিতই কথা বলছি। আমরা বিশ্ব রাজনীতি পর্যবেক্ষণ করছি। আঞ্চলিক রাজনীতি পর্যবেক্ষণ করছি। সব মিলিয়ে এই (সংসদে যাওয়ার) সিদ্ধান্ত।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে একদলীয় শাসন রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তম্ভকে দলীয়করণ করা হয়েছে। প্রশাসন, জুডিশিয়াল, গণমাধ্যম- সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ গভীর সংকটে পড়েছে। এটা শুধু বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের সংকট নয়, গোটা জাতির সংকট।

সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আসলে এত বেশি প্রবৃদ্ধির কথা বলা হয় যে বাংলাদেশ বড় উন্নয়নের জায়গা চলে গেছে। কোথায় উন্নয়ন হচ্ছে? উন্নয়নের নামে প্রহসন চলছে। উন্নয়নের দুর্নীতি চলছে, লুটপাট চলছে। ব্যাংককিং খাতকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ও বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান সেলিমা রহমানের সভাপতিত্ব আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শাহিদা রফিক, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ।


নিউজ টি শেয়ার করুন..

সর্বশেষ খবর

আরো খবর