আজ শনিবার। ২০শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ। ৭ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ। ১০ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি। এখন সময় রাত ১০:১৯

শুধুমাত্র কলিজা থাকলেই বিএনপি করা যাবে না

শুধুমাত্র কলিজা থাকলেই বিএনপি করা যাবে না
নিউজ টি শেয়ার করুন..

বিএনপি করতে কলিজা লাগে”- এ কথাটা এখন বিএনপির সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের অনেক নেতাকর্মীদের ফেসবুকে বিভিন্নভাবে দিতে দেখা যায়।আজকের বিষয়, আসলেই কি বিএনপি করতে কলিজা লাগে নাকি আরো কিছু লাগে বা লাগবে।

২০০৬ সাল বা তারপর থেকে যারা বিএনপির রাজনীতি করছে তাদের বেশিরভাগই বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষহীন নীতি এবং তারেক রহমানের দেশ গড়ার যে অকৃতিম চেষ্টা এবং দেশের প্রত্যন্ত গ্রাম ঘুরে ঘুরে দেশের মানুষের দুঃখ-দূর্দশা দেখা এবং তা লাঘবের জন্য যে সকল জনবান্ধব কর্মসূচি গ্রহন,তা দেখেই করছে।১/১১ তে দুই নেত্রীকে গ্রেফতার করে পরবর্তীতে চিকিৎসার কথা বলে দুজনকেই দেশের বাইরে পাঠিয়ে মাইনাস-২ ফর্মূলার যে চেষ্টা করা হয়েছিল,সে ফাঁদে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পা দিলেও বেগম খালেদা জিয়ার আপোষহীন মনোভাবের কারনে সম্ভব হয়নি।তিনি তাঁর নীতিতে অটল ছিলেন।যার কারনে মাইনাস-২ করতে পারেনি ১/১১র প্রেতাত্মারা।
আজকের প্রধানমন্ত্রী, যে প্রধানমন্ত্রী হয়ে দেশ চালাচ্ছেন তাও সেদিনকার বেগম জিয়ার আপোষহীনতারই ফসল।
সেদিন যদি দুইনেত্রীকেই দেশের বাইরে পাঠানো যেত, তাহলে কি হত তা দেশবাসী খুব ভালোভাবেই অবগত,তাই এব্যাপারে আর বেশি দূর গেলাম না।

যাইহোক এরপর থেকে বিরোধী দলের এমন কোন নেতা-কর্মী বাদ নেই যে সরকার কর্তৃক দূঃশাষনের শিকার হয়নি।হত্যা,গুম,খুন,শত শত মামলা,হামলা,হুলিয়া নিয়ে বেড়াতে হচ্ছে বিএনপি নামক এইদলটির নেতাকর্মীদের।তারপরও বিএনপি টিকে আছে, সগৌরবে টিকে আছে।
কিন্তু কেন??
আমি বিশ্বাস করি,এখন যারা বিএনপি করে তারা ভালোভাবেই জানে দেশের মানুষকে একটি সুন্দর,সুস্থ ভাবে নিশ্বাস নেয়ার সুযোগ করে দিতে হলে বিএনপিকে টিকিয়ে রাখতেই হবে।দেশে আজ যে পরিমান অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে তার সবথেকে বড় কারন বর্তমান বিচারহীনতার প্রথা।দেশের এমন কোন সেক্টর বাকী নেই যেখানে দূর্নীতি-দূশাসনের পরশা সাজিয়ে বসে নাই সরকারী দলের লোকেরা।প্রতিদিনের পত্রিকার কাগজ এবং টেলিভিশনের খবর আমাদের তাই মনে করিয়ে দেয়।
স্কুল,কলেজ,মাদ্রাসার শিক্ষকরা রাজনীতি করছে।রাজনৈতিক সুবিধা গ্রহনের নিমিত্তে তারা সরকারী দলের এমপি-মন্ত্রী বা রাঘব-বোয়ালদের তেলবাজীতে লিপ্ত।সামাজিক মাধ্যমগুলাতে দেখা যায়,স্কুল,কলেজের শিক্ষকরা এমপি-মন্ত্রীদের ফুলেল শুভেচ্ছা দিচ্ছে,নিজের চেয়ারে নেতাদের বসতে দিয়ে নিজে পাশে দাঁড়িয়ে আছে ইত্যাদি। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দিবে কখন?তেলবাজী করে তারা মাঝে মাঝে এতটাই পাওয়ারফুল হয়ে যায়,ধরাকে সরা জ্ঞান করে না।
বিভিন্ন স্থানের শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রী ধর্ষন আগেকার দিনে দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হলেও এখন তা নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়ে পরিনত হয়েছে।বোধ করি তার সবচেয়ে বড় কারন ক্ষমতাশীনদের পৃষ্টপোষক হওয়ায় এবং সরকারের বিচারহীন রাষ্ট্র ব্যবস্থার কারনে।এমপি-মন্ত্রীদের পদ লেহন করতে পারলেই সকল বিচারের উর্ধ্বে উঠা যায়।তাই এসকল অপ্রত্যাশীত অপরাধ কমছে না বরং বাড়ছে এবং দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে।
এই অবস্থা থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হচ্ছে সরকারের বিপরীতে একটি শক্তিশালী বিরোধী শক্তি,যা এখনো পর্যন্ত মানুষ বিএনপিকেই ভাবে।
তাই দেশকে মানুষের বাসযোগ্য করে টিকিয়ে রাখতে হলে বিএনপিকে এখনকার চেয়ে আরো অনেক বেশি শক্তিশালী ভূমিকায় পরিনত হওয়া আবশ্যক।

এইমূহুর্তে বিএনপি কি করবে তা আমার মত নগন্য ব্যক্তির বলাটা শোভা পায় না ঠিকই,কিন্তু দীর্ঘদিনের মনের গহীনে একটু একটু করে লালন করা,কৈশোরের অনেকটা সময় এবং যৌবনের এযাবত কাল পর্যন্ত যে অনুভূতি নিয়ে একটি দলটাকে আঁকড়ে ধরে আছি সে দলের নীতি নির্ধারকদের কিছু অনুরোধ সূচক বাক্য বিনিময় করতে আজ খুব বেশি ইচ্ছা করছে।
প্রথমত, যারা বিএনপির সহযোগী সংগঠন(বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল) করতে চান,তাদেরকে অনতি বিলম্বে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯ দফাটি মাথায় রেখে, বেগম খালেদা জিয়ার অতীতের রাজনৈতিক ইতিহাস সম্পর্কে খুব ভালোভাবে জানতে হবে।

আমাদের তরুন সমাজের অহংকার জননেতা জনাব তারেক রহমানের প্রতি অকুন্ঠ সমর্থন ও বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে।

যেকোন মূল্যে,যেকোন কিছুর বিনিময়ে হোক মাদার অব ডেমোক্রেসি,তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিঃশর্তে মুক্তিদানে সরকারকে বাধ্য করতে হবে।

তাছাড়া দল আজ প্রায় ১৩ বছর ক্ষমতার বাইরে তাই আপাতত আমি মনে করি সুবিধাভুগি,হাইব্রিড,চাটুকার দলের মধ্যে নেই,তাই যারা আছে তাদেরকে অতীতের কাজ এবং মেধার ভিত্তিতে সম্মানজনক পদে আশিন করা প্রয়োজন।

যারা দলের জন্য ত্যাগ করে বিভিন্ন লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দলকে আজ এই জায়গায় এনেছেন এবং আজ বয়বৃদ্ধ হয়ে গেছেন,তারা থাকতে থাকতে নতুনদের বিএনপি এবং যুবদলের দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে।যাতে করে নতুনরা কোন ভুল সিদ্ধান্ত নিলে,জেষ্ঠ্যরা তা শুধরে দিতে পারেন।

প্রতিটা পদবী দেয়ার পূর্বে ঐ ব্যক্তির পারিবারিক ভাবে কোন রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত তা বিচার করলে সবচেয়ে ভালো হয়।কারন যার পরিবারের কেউ অন্যকোন দলের সাথে যুক্ত আছে তার নিজদলের প্রতি মন কাঁদবে না এটাই স্বাভাবিক।যা ব্যক্তিগতভাবে ১৮র ৩১শে ডিসেম্বর হাঁড়ে হাঁড়ে টের পেয়েছি।

১৩ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকায় স্বাভাবিক ভাবেই নতুন কর্মী সৃষ্টির সংখ্যা অতি নগন্য।তাই স্কুল,কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে যাদের ভালো যোগাযোগ আছে এবং তরুনদের সাথে সকল ক্ষেত্রে যোগাযোগ রক্ষা করে এমন লোকদেরই পদায়ন করা প্রয়োজন বোধ করি।

মূলদল,যুবদল,সেচ্ছাসেবক দলে সাবেক ছাত্রনেতাদের প্রাধান্য দিলে দল সব সময়ই শক্তিশালী এবং গতিশীল হবে।

স্থানীয় এবং রাষ্ট্রীয় যেকোন ইস্যুতে দেশবাসীকে সাথে নিয়ে আন্দোলনে সামিল হলে দেশের মানুষের সমর্থন সব সময় আমাদের সাথেই থাকবে।তাই অরাজনৈতিক ইস্যুও যদি দেশবাসীর প্রয়োজনের হয়,তাতে বিএনপিকে সামিল দেখতে চাই।কারন বিএনপি শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দল নয়,জনগণের দলও বটে।

সবকিছুর প্রথমে এবং শেষে প্রিয় নেতা তারেক রহমানের সিদ্ধান্তকেই প্রাধান্য দিয়ে চলাটাই এই মূহুর্তে বিএনপির সবচেয়ে বড় গুরু দায়িত্ব।

শেষ কথা যা আমার কাছে অতীব জরুরি বলে মনে হয়,বিএনপি করতে হলে আজ থেকে,মানুষের যে ৬ টি রিপু আছে তা ছেড়ে দিতে হবে।
অর্থাৎ কাম,ক্রোধ,লোভ,মেহ,মদ ও মাৎসর্য এগুলো ত্যাগ করতে হবে।
১. কাম – যৌন সঙ্গকামনা, রিরংসা, যৌনক্ষুধা।
২. ক্রোধ – রাগ, উত্তেজনার বশীভূত হওয়া।
৩. লোভ – লালসা ।
৪. মোহ – মায়া, বিভ্রম ।
৫. মদ – অহংকার, গর্ব, আত্মগৌরব।
৬. মাৎসর্য – পরশ্রীকাতরতা, অন্যের ভালো দেখতে না পারা।
বিশেষ করে শেষ ৫ টি রিপু কারো মধ্যে থাকলে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত থাকাটা বড়ই কঠিনতর হবে।তাই নিঃস্বন্দেহে একটি কথা বলা যায়, বিএনপি করতে শুধুমাত্র বুকের কলিজাই নয় বরং আরো অনেক কিছু লাগবে।

লেখক :
আতাহার আহমেদ তানভীর ,
সদস্য সচিব, শাহরাস্তি উপজেলা ছাত্রদল


নিউজ টি শেয়ার করুন..

সর্বশেষ খবর

আরো খবর