আজ রবিবার। ৩রা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ। ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ। ২১শে শাবান, ১৪৪৫ হিজরি। এখন সময় রাত ৪:১৭

লক্ষ্মীপুরের ঝুঁকিপূর্ণ ৯৯টি প্রাইমারি স্কুল

লক্ষ্মীপুরের ঝুঁকিপূর্ণ ৯৯টি প্রাইমারি স্কুল
নিউজ টি শেয়ার করুন..

আনোয়ার হোসেন :
লক্ষ্মীপুরের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ছাদের পলেস্তারা নেই, দেখা যাচ্ছে বিম আর পিলারের ভিতরের মরিচা ধরা লোহার রড। আবার রয়েছে বড় বড় ফাটল, সামান্য বৃষ্টিতেই ছাদ থেকে চুইয়ে পড়ছে পানি।

আর এর মধ্যেই প্রতিনিয়ত চলছে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের পাঠদান। প্রাথমিক পর্যায়ে জেলার ৯৯টি বিদ্যালয়ের এমনই জরাজীর্ণ অবস্থা। রয়েছে শ্রেণিকক্ষ সংকটও। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে তাই চরম আতঙ্কে আছেন এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এতে একদিকে জরাজীর্ণ ভবন ধসে প্রাণ হানির আশঙ্কা, অন্যদিকে বিদ্যালয়ে আসার আগ্রহ হারাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বার বার জানালেও কোন সুফল মিলছে না বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। লক্ষ্মীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর সদর, রামগঞ্জ, রায়পুর, কমলনগর ও রামগতি- ৫টি উপজেলায় ৭৩২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে জরাজীর্ণের তালিকায় রয়েছে ৯৯টি। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকি নিয়েই চলছে এসব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান। রামগঞ্জ উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের নাগ রাজারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রহিমা আক্তার ভূইয়া জানান, জরাজীর্ণ হওয়ায় ২০১৩ সালে বিদ্যালয় ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। ছয় বছর পার হলেও নতুন ভবন নির্মাণ হয়নি। শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে পাশের মাদ্রাসার কয়েকটি রুমে শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। বেশ কয়েকদিন খোলা আকাশের নিচেও শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হয়েছে।

পাঠদানের অনুপযোগী হওয়ায় সদর উপজেলার তালহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম ও তৃতীয় শ্রেণির কক্ষ দুইটিতে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। ফলে অন্য একটি কক্ষে পালাক্রমে এ দুই শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে হচ্ছে। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মোছাম্মদ হাছিনা আক্তার জানান, জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষে ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষকরা পাঠদান করছেন। যেকোন মুহুর্তে ভবন ধসে দূর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন তিনি।

শিক্ষক ও শিশু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপকালে অনেকেই জানালেন, স্কুলে সারাক্ষণই ভয় নিয়ে ক্লাশ করতে হয়। এ জন্য পাঠদানও ভাল হচ্ছে না। তাছাড়া বিকল্প ব্যবস্থাও নেই। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তকর্তাদের অবহিত করেও কোন ফল আসছে না। লক্ষ্মীপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবু জাফর মো. সালেহ জানান, জেলায় জরাজীর্ণ বিদ্যালয়ের তালিকা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রকল্পের মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কার কাজও চলছে। এই বছর না হোক আগামী অর্থ বছরের প্রকল্পের মাধ্যমে সবগুলো জরাজীর্ণ বিদ্যালেয়র কাজ সম্পন্ন করা হবে। আশা করি পিইডিপি-৪ কর্মসূচীর আওতায় জেলায় কোন জরাজীর্ণ বিদ্যালয় থাকবে না, বলেন তিনি।


নিউজ টি শেয়ার করুন..

সর্বশেষ খবর

আরো খবর