আজ শনিবার। ২০শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ। ৭ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ। ১০ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি। এখন সময় রাত ১০:২৫

সুনামগঞ্জে শিক্ষক অপসারণের দাবিতে ৭২ ঘন্টার আলটিমেটাম

সুনামগঞ্জে শিক্ষক অপসারণের দাবিতে ৭২ ঘন্টার আলটিমেটাম
নিউজ টি শেয়ার করুন..

আশিস রহমান : সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের ঘিলাছড়া স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমানের দ্রুত অপসারণের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে গোটা নরসিংপুর ইউনিয়ন। স্থানীয় সূত্রে জানায়, গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সকালে বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে প্রতিষ্টানের প্রধান শিক্ষক মজিবুর রহমান সপ্তম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে তার অফিস কক্ষে নিয়ে যৌন হয়রানির চেষ্টা করেন। ওই সময় ছাত্রীর চিৎকারে অনুষ্ঠানে উপস্থিত উত্তেজিত ছাত্র-জনতা গণধোলাই দেয়। এরপর থেকে জনরোষ বাড়তে থাকায় প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমান তার কর্মস্থলে যোগদান করেননি। এই ঘটনার পর বিষয়টি এখনো পর্যন্ত সুরাহা না হওয়ায় বিদ্যালয়ে পড়াশোনার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসেনি এখনো। তার বিরুদ্ধে দিন দিন জনরোষ বাড়ছেই।

স্থানীয়রা জানান, ছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের দায়ে অভিযুক্ত ঘিলাছড়া স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমান এরআগেও নারী সংক্রান্ত বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িত থাকার কারণে তার সাবেক কর্মস্থল কোম্পানী গঞ্জে অপদস্থ হয়েছিলেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে অনেক আগ থেকেই দূর্নীতি, সেচ্ছাচারিতাসহ নানান বিতর্কিত কর্মকান্ডের অভিযোগ রয়েছে। তা জানা স্বত্ত্বেও স্থানীয় প্রভাবশালী এক রাজনৈতিকের সহযোগিতায় মুজিবুর রহমানকে গিলাছড়া স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

তবে এব্যাপারে মুখ খুলতে নারাজ গভর্নিং বডির একাধিক সদস্য সহ প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকরা। সরেজমিনে গিয়ে গভর্নিং বডির একাধিক সদস্যসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাথে এব্যাপারে জানতে চাইলে তারা বলেন, ‘এবিষয়ে বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মহুয়া মমতাজের অনুমতি ছাড়া কিছু বলা যাবেনা। ৪ এপ্রিল বুধবার মিটিং ডাকা হয়েছে। যা বলার তা মিটিংয়ের পরবর্তীতে জানানো হবে।’

এদিকে ৩ এপ্রিল বুধবার সকাল এগারোটায় ঘিলাছড়া স্কুল এন্ড কলেজের মাঠে নরসিংপুর স্টুডেন্টস ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির উদ্যোগে ছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের দায়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমানকে দ্রুত অপসারণসহ তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী।

মানববন্ধনে একাত্মতা জানিয়ে অংশগ্রহণ করে পুষ্পায়ন সমাজকল্যাণ সংস্থা, লাইফ শেয়ার বিডিসহ স্থানীয় একাধিক সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এসময় ‘যৌন নিপিড়কদের ঠাঁই নাই, নিপিড়কের আঁতুড়ঘর জ্বালিয়ে দাও, পুড়িয়ে দাও’ ‘আপনার সন্তান যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেনা তো..?’ ‘শিক্ষাঙ্গনে দূর্নীতি চলবেনা চলবেনা ‘ ‘২৬শে মার্চ যৌন হয়রানি দিবস নয়’ ‘STOP VILENCE AGAINST TO SCHOOL GIRLS’ ‘শিক্ষক দ্বারা যৌনা ঘাত, মুজিবুর তুই কিসের জাত?’ প্রভৃতি প্লেকার্ড হাতে কয়েক শতাধিক শিক্ষার্থীদেরকে মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করতে ও শ্লোগান দিতে দেখা গেছে।

নরসিংপুর সমাজকল্যাণ সংস্থার সাবেক সভাপতি আবিদ রনির পরিচালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন স্টুডেন্টস ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক নওয়াজ শরীফ, লাইফ শেয়ার বিডির সহ সাধারণ সম্পাদক মুহিবুর রহমান, পুষ্পায়ন সমাজকল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক নেছার আহমেদ, অভিভাবক বকুল হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব মনোয়ার আলী মনোয়ার, ঘিলাছড়া স্কুল এন্ড কলেজের গভর্নিং বডির সাবেক সদস্য হাফিজুল ইসলাম জুয়েল, সমাজকর্মী কয়ছর আহমদ চৌধুরী, শিক্ষার্থী তাজমিন আক্তার কলি, একরামুল হক প্রমুখ।  বক্তব্যে বক্তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দাবি জানিয়ে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করতে স্থানীয় হাতেগোনা কতিপয় অপরাজনৈতিক ব্যক্তি এলাকাবাসীর বিপক্ষে গিয়ে দূর্নীতিবাজ ও চরিত্রহীন প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমানের পক্ষ নিয়েছেন।

যে শিক্ষক শিক্ষার্থীকে তার নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে যৌন হয়রানির চেষ্টা করতে পারে তার কাছে কোনো শিক্ষার্থী নিরাপদ নয়। শিক্ষার সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে অভিলম্বে শিক্ষক নামের কলঙ্ক মুজিবুর রহমানকে ঘিলাছড়া স্কুল এন্ড কলেজ থেকে দ্রুত অপসারণ করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।’

মানববন্ধনে শিক্ষার্থী ও বক্তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষকে ৭২ ঘন্টার আলটিমেটাম দিয়ে তাদের দাবি বাস্তবায়ন করার আহবান জানান। অন্যথায় বিতর্কিত শিক্ষক মুজিবুর রহমানকে ঠেকাতে কঠোর আন্দোলনে নামারও হুশিয়ারি দেন তারা।

এদিকে মানববন্ধনে শিক্ষার্থীসহ এলাকার বিভিন্ন সামজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দদের অংশগ্রহণ করতে দেখা গেলেও প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকদেরকে মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণে বিরত থাকতে দেখা গেছে। সরেজমিনে গিয়ে আলাপ করলে ঘিলছড়া স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষকরা জানান, ‘বিদ্যালয়ের পরিস্থিতি দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। তারা বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। মানববন্ধন কর্মসূচির ব্যাপারে তারা কিছুই জানেন না। তবে ৩ এপ্রিল সকাল এগারোটার দিকে হঠাৎ শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে।’

এব্যাপারে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে ঘিলাছড়া স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমান বলেন  ‘আমার উপর আনিত সকল অভিযোগ মিথ্যা এবং বায়োনাট। স্বাধীনতা দিবসে স্বাধীনতা বিরোধী একটি কুচক্রী মহল আমার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে ও অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা আমাকে সন্ত্রাসী কায়দায় আক্রমণ করে আহত করেছে, আমার প্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতিসহ আমার টাকা পয়সা লুট করেছে।’

দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ঘিলাছড়া স্কুল এন্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি কাজী মহুয়া মমতাজ বলেন, ‘আমি দুই পক্ষের অভিযোগ পেয়েছি। এক পক্ষ শিক্ষক মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীর উপর যৌন হয়রানির অভিযোগ দিয়েছে। অপরপক্ষে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকরা শিক্ষক মুজিবুর রহমানের উপর আক্রমণের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বিষয়টি সমাধানে ৪ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সবাইকে নিয়ে বসবো।


নিউজ টি শেয়ার করুন..

সর্বশেষ খবর

আরো খবর