আজ শনিবার। ২০শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ। ৭ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ। ১০ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি। এখন সময় রাত ১১:৫৫

হবিগঞ্জের বাহুবলের নেশাগ্রস্থ আলোচিত প্রকৌশলীর বদলীর নিয়ে এবার নাটক

হবিগঞ্জের বাহুবলের নেশাগ্রস্থ আলোচিত প্রকৌশলীর বদলীর নিয়ে এবার নাটক
নিউজ টি শেয়ার করুন..

আজিজুল ইসলাম সজীব,হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় কর্মরত উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বদলী নাটক নিয়ে উপজেলার লোক মুখে নানন রকমের আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে প্রকৌশলী গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নানা বিতর্কিত কর্মকান্ড, অনৈতিক চলাফেরা, অফিসে প্রয়োজনীয় সময়ে না পাওয়া, নিজ অফিসের স্টাফদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ, অন্যান্য অফিসের স্টাফ কর্মকর্তাদের সাথে অমার্জিত ব্যবহার, বাহুবলের উন্নয়ন কাজে ঘুষ না হলে স্থবির হয়ে পড়া, এমনকি কাজের বিল আনতে গেলে ঘুষ না দিলে ঠিকাদারগণের সাথে দুর্ব্যবহার, মাতাল এর মত কথা বলেন , উচ্চ শব্দে গান বাজনা বাজানো ইত্যাদি বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।

বেশ কিছুদিন আগে তিনি তার প্রকৌশলী অফিসের হিসাব রক্ষক মীর মাহবুবুল হককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও গায়ে পর্যন্ত কোন কোন সময় হাতও তুুলেন।
এছাড়া ও কিছুদিন আগে তার নিজ অফিস কক্ষে দরজা বন্ধ করে প্রায় ৩ ঘন্টা অফিসের সার্ভেয়ার ওয়াহিদুজ্জামান দুলালকে করে আটকে রেখে প্রকৌশলী গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ তার কয়েক বহিরাগত কিছু নেশা গ্রস্থ
লোক নিয়ে সার্ভেয়াকে অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন করেন।

খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবা কর্মী অফিস কক্ষের দরজা বন্ধ দেখে হতবম্ভ হন। এতে অনুমান করা হয় ভেতরে হয়ত কিছু একটা ঘটছে।
এ সময় প্রকৌশলীসহ তার সংঙ্গীয় বহিরাগত যুবকরা বেরিয়ে যান। এর পরই সার্ভেয়ার দুলালকে তার কয়েক সহকর্মী ও স্থানীয় কয়েকজন বাহুবল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। যাহার অডিও রেকর্ডের প্রমাণ রয়েছে স্বানীয় সংবাদ কর্মী দের কাছে।

এসব অনিয়মের রেকর্ড সৃষ্টিকারী গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে গত ২১ এপ্রিল এলজিইডি অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে (স্মারক-৩০২১, তাং ২১/৪/১৯) বদলীর আদেশ দেয়া হয়।
আদেশ অনুযায়ী ময়মনসিংহ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়ে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করার কথা। যাহা

কিন্তু হবিগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মোঃ আবু জাকির সিকান্দর তাকে (স্মারক-৭০১, তাং ৫/৫/১৯ ইং) ছাড়পত্র দেন। সাধারণ নিয়ম হচ্ছে বদলীকৃত ব্যক্তি বর্তমান কর্মস্থলের ছাড়পত্র পেলে তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগদান করারই কথা। কিন্তু মহিউদ্দিনের বেলায় ঘটল এর ব্যতিক্রম।
ছাড়পত্র দেয়ার পরদিন (স্মারক-৩৩৫০, তাং ৬/৫/১৯ ইং) আবারো প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আবুল কালাম আজাদ পূর্বের বদলীর আদেশ পরিবর্তন করে তাকে মৌলভীবাজার জেলা কমলগঞ্জ উপজেলায় বদলীর নতুন আদেশ দেন। তবে এ আদেশ আগামী ১লা জুলাই থেকে কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হয়। একেই বলে বদলী নাটক।

এদিকে ইতিপূর্বে হবিগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মোঃ আবু জাকির সিকান্দর গত এপ্রিল মাসে (স্মারক-৫৯০, তাং ১০/৪/১৯) বাহুবল উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে ‘দায়িত্বহীনতা, কর্তব্য কাজে অবহেলা’র জন্য কৈফিয়ত তলব করেন। এই কারণ দর্শাও নোটিশেও উঠে আসে নানা অনিয়ম ও উন্নয়ন কাজে অব্যবস্থাপনা ও স্থবিরতা।
এত কিছুর পরও বিধি লঙ্ঘন করে বদলীর আদেশ ও কর্মস্থল ছাড়পত্রের ২৪ ঘন্টা যেতে না যেতেই কর্মে যোগদান না করেই আবার বদলীর আদেশ বাতিল হয় কিভাবে? তা কি বিধি পরিপন্থী নয় ? এ বিষয়ে হবিগঞ্জ জেলা জুুড়ে চলছে নানান বিতর্কের ঝড় ।

নিউজ টি শেয়ার করুন..

সর্বশেষ খবর

আরো খবর