আজ রবিবার। ৩রা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ। ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ। ২১শে শাবান, ১৪৪৫ হিজরি। এখন সময় রাত ৪:৪৮

সরকারের শেষ বছরে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের হিড়িক, প্রশাসনে অসন্তোষ

সরকারের শেষ বছরে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের হিড়িক, প্রশাসনে অসন্তোষ
নিউজ টি শেয়ার করুন..

সরকার শেষ বছরে এসে একের পর এক চুক্তিভিত্তিত নিয়োগ দিচ্ছে। এসব চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রশাসনে অস্থিরতা, অস্বস্তি তৈরি করছে। কর্মকর্তাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে অসন্তোষ। তারা বলছেন, এভাবে একের পর এক চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হলেতাদের পদোন্নতি বন্ধ হয়ে যায়। একারণেই অতিরিক্ত সচিবসহ সিনিয়র কর্মকর্তারা আস্তে আস্তে এই ধরণের যথেচ্ছ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের প্রকাশ্য সমালোচনা করছেন।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান হিসেবে কর্মরত সরকারের সচিব মো. আনিছুর রহমান মিয়াকে এক বছরের জন্য চুক্তিতে নিয়োগ দেয় সরকার। ২ এপ্রিল থেকে তাঁর চুক্তির মেয়াদ কার্যকর হয়।

গত মার্চ মাস থেকে একের পর এক চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ঘটনা ঘটছে প্রশাসনে। গৃহায়ণ গণপূর্ত সচিব ওয়াছি উদ্দিন কে গত ১০ মার্চ বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়। এর পর পরই বিপিসি চেয়ারম্যান এবিএম আজাদকে গত এপ্রিল এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়। বছরে এখন পর্যন্ত চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে তিন জনকে। এদের মধ্যে গত ১৪ মে বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষকে এক বছরের জন্য নতুন করে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। জননিরাপত্তা সচিব মোস্তাফিজুর রহমানকে সিনিয়র সচিব করে এক বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। গত ২৪ মে এই সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ২৮ মে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হাসিবুল আলমকে এক বছরের জন্য চুক্তিতে নিয়োগ দেয়াহয়েছে। সামনে আরও অন্তত দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হবে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া।

তোফাজ্জল হোসেন মিয়ার চাকরির মেয়াদ আগামী জুলাই শেষ হয়ে যাচ্ছে। তিনি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছারাও মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেনের চাকরির মেয়াদ শেষ হবে ১৫ অক্টোবর। তাকেও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

কিছুদিন আগেও সরকার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ব্যাপারে কঠোরতা আরোপ করেছিল। বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ এবং সরকারের আস্থাভাজন ব্যক্তি হওয়ার পরও অনেককে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়নি। ফলে প্রশাসনের মধ্যে এক ধরণের স্বস্তি তৈরি হয়েছিল। অনেকেই বলছিলেন যে, এর ফলে ১৩তম ব্যাচ এবং পরবর্তিতে ১৫তম ব্যাচের সচিব হবার পথ উন্মুক্ত হবে। বর্তমানে প্রশাসনে অতিরিক্ত সচিবের ছড়াছড়ি। অতিরিক্ত সচিব হবার পর সচিবের জন্য অপেক্ষমানদের তালিকা যেমন দীর্ঘ হচ্ছে, তেমনি অপেক্ষার সময়ও বাড়ছে। এটি এক ধরণের হতাশা তৈরি করেছে।

সরকারি সূত্রগুলো বলছে, নির্বাচনের আগে সরকার গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় এবং দপ্তর গুলোতে কোন ঝুঁকি নিয়ে চায় না। নতুন কাওকে বসিয়ে নতুন করে সবকিছু শুরু করে চায় না। বরং যারা ছিল তাদেরকে নির্বাচন পর্যন্ত দায়িত্বে রাখার নীতি অনুসরন করছে সরকার। সে ধারাবাহিকতায় এরকম চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে বলে অনেকই মনে করেন। কিন্তু নিয়ে প্রশাসনের মধ্যে নানা রকম সমালোচনা শোনা যাচ্ছে। তারা বলছেন, নির্বাচনের আগের প্রশাসনের মধ্যে ধরণের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ভুল বার্তা দিচ্ছে। তাছাড়া যেকোন সচিবই তার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনে দক্ষ। নতুন সচিব বলে তিনি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না এমনটি মনে করার কোন কারণ নেই। আর তাই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের হঠাৎ বৃদ্ধি অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত বলে কেউ কেউ মনে করছে।

উল্লেখ্য যে, বর্তমান সরকার ২০০৮ সালে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর প্রশাসনে শৃঙ্খলা এবং চেইন অব কমান্ড ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু নীতিমালা প্রণয়ন করেছিল। যার মধ্যে একটি ছিল চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকে নিরুৎসাহিত করা। কিন্তু গত কিছুদিন ধরে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের আবার বাড়তে শুরু করেছে।


নিউজ টি শেয়ার করুন..

সর্বশেষ খবর

আরো খবর