আজ রবিবার। ৩রা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ। ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ। ২১শে শাবান, ১৪৪৫ হিজরি। এখন সময় রাত ৪:৩০

বেপরোয়া ছাত্রলীগের সনি-প্রভাতী

বেপরোয়া  ছাত্রলীগের সনি-প্রভাতী
নিউজ টি শেয়ার করুন..

রাজধানীর নীলক্ষেতে অবস্থিত গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্স (পুরোনো হোম ইকনোমিক্স কলেজ) কলেজের সামনে রয়েছে একটি লেগুনাস্ট্যান্ড। আবার কলেজের সামনের ফুটপাতের সড়ক ধরে আজিমপুর মোড়ের দিকেএগোলে ফুটপাতেই দেখা মিলবে সারি সারি দোকান। এসব দোকান লেগুনাস্ট্যান্ড থেকে নিয়মিত চাঁদা নেন কলেজ শাখাছাত্রলীগের সভাপতি শারমিন সুলতানা সনি সাধারণ সম্পাদক আকলিমা আক্তার প্রভাতী। চাঁদা না দিলে দেখানো হয়ভয়ভীতি।

সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলেজ শাখাছাত্রলীগের সভাপতি শারমিন সুলতানা সনি এবং সাধারণ সম্পাদক আকলিমা আক্তার প্রভাতী লালবাগ থানাধীন নিউমার্কেটমোড় থেকে ইডেন মহিলা কলেজ পর্যন্ত মিরপুর রোডের পূর্বপাশের ফুটপাতের ভাসমান হকার্স দোকানদারের লাইনম্যান মো. সোহেলের কাছ থেকে সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতিবার তিন হাজার টাকা করে মাসিক মোট ১২ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করেন।

এছাড়াও নিউমার্কেট (নীলক্ষেত ক্রসিং) মোড়ে পথের বন্ধু ফিলিং স্টেশনের সামনে লেগুনা স্টেশন পরিবহনের লাইনম্যান মো. মোহসিন প্রতিদিন চাঁদার টাকা উত্তোলন করে বড় ভাই লাইনম্যান মো. মানিক মৃধার কাছে দেন। মানিক কলেজের দুই নেত্রীকেসপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতিবার তিন হাজার ৫০০ টাকা করে মাসিক ১৪ হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে থাকেন।

চাঁদা দেওয়ার কারণ হিসেবে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ছাত্রলীগের দুই নেত্রী কলেজের সামনে ফুটপাতে দোকান বসলেশিক্ষার্থীদের চলাচলের অসুবিধা হবে, তাই দোকান উঠিয়ে দিতে চান। তখন নিরুপায় হয়ে হকার্সরা তাদের চাঁদা দেন। আরকলেজের সামনে দিয়ে লেগুনা চলাচলের সময় চালকহেলপাররা মেয়েদের উত্ত্যক্ত করেনএমন অভিযোগ করে লেগুনাচলাচল বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। তাই অনেকটা ভয়ে বাধ্য হয়ে ছাত্রলীগের এই দুই নেত্রীকে চাঁদা দেন তারা।

সরেজমিনে এসব বিষয় অনুসন্ধানের সময় চাঁদা সংগ্রহকারী ব্যক্তিরা তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তেতারা জানান, ফুটপাতের দোকানদার এবং লেগুনা থেকে চাঁদা সংগ্রহ করে সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতিবার বা কোনো একটিসুবিধাজনক দিনে শারমিন বা প্রভাতী যে কোনো একজনের কাছে তা দিয়ে আসেন তারা। দুই খাত থেকে মাসে তাদের ২৫হাজার টাকার মতো চাঁদা দিতে হয়। এছাড়া ক্যাম্পাস এলাকার ফুচকাচটপটির দোকান থেকে তারা চাঁদা নেন। সেখান থেকেমাসে ছয় হাজার টাকা চাঁদা নেন ছাত্রলীগের দুই নেত্রী।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক হকার বলেন, হ্যাগোর (সনিপ্রভাতী) এখানে বইসা ব্যবসা করবেন আর হ্যাগোরে দেবেন না হেইডাকি হয়। নিয়মিতই এহান থেইক্যা টাহা পায়৷ আমরা কী করমু কন, টাহা না দিলে কাল কইবো কলেজের কোনো মাইয়্যাগোরে টিজকরছে। তহন হগলে তো আমাগোরে পিডাইবো। আমাগো কিছু করনের নাই। চাঁন্দা দেওয়াই লাগবো, নইলে ব্যবসা বন্ধ কইরাদিবো।

শুধু ফুটপাত কিংবা লেগুনাস্ট্যান্ডেই নয়, কলেজে কোনো উন্নয়নকাজ এলে সেখানেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে টাকা দাবি করারঅভিযোগ রয়েছে দুই ছাত্রলীগ নেত্রীর বিরুদ্ধে।

চাঁদাবাজির এসব বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শারমিন সুলতানা সনি বলেন, এগুলো তো সিটিকরপোরেশনের রাস্তা। আমাদের কিছুই করার নেই। আমরা অধ্যক্ষ বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছিলাম, এসব উচ্ছেদের জন্য।আমরা যদি বেনিফিটেড (সুবিধাভোগী) হতাম তাহলে কি উচ্ছেদের জন্য সুপারিশ করতাম। আমি কোনো প্রোগ্রামে লেগুনা দিয়েশিক্ষার্থীদের নিয়ে গেলে ২০০ টাকা ভাড়া দিয়ে দিই। কোনো কুচক্রী মহল আমাদের ক্ষতি করার জন্য এসব বলেছে।

সাধারণ সম্পাদক আকলিমা আক্তার প্রভাতী বলেন, আপনি একটু ভালোভাবে খোঁজ নিয়ে দেখেন, কারা এসব নিয়ন্ত্রণ করে।আমরা এসবের সঙ্গে জড়িত নই। এর আগেও যে নিউজটা হয়েছে আমরা কিন্তু ম্যাডামের (অধ্যক্ষ) সঙ্গে কথা বলে দ্রুত কাজশুরু করতে বলেছি। আমাদের কমিটি এক বছর হয়েছে, আমরা যদি চাঁদা নিতাম আপনারা আরও আগেই জানতে পারতেন।

শাখা ছাত্রলীগের চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমরা খোঁজ নেবো।অভিযোগের সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজ টি শেয়ার করুন..

সর্বশেষ খবর

আরো খবর