আজ রবিবার। ৩রা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ। ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ। ২১শে শাবান, ১৪৪৫ হিজরি। এখন সময় সকাল ৬:২৬

বিএনপির ব্যাপারে আওয়ামী লীগের পাঁচ ‘না’

বিএনপির ব্যাপারে আওয়ামী লীগের পাঁচ ‘না’
নিউজ টি শেয়ার করুন..

বিএনপি যতই আন্দোলন জোরদার করতে চাইছে, সরকারের বিরুদ্ধে এক দফা আন্দোলন শুরু করতে চাইছে ততই আওয়ামী লীগ অনড় অবস্থানে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক সূত্রগুলো বলছে, বিএনপিকে কোথাও কোনো ছাড় দেয়া হবে না। বিএনপির ব্যাপারে আওয়ামী লীগ এখন পাঁচ ‘না’ এর নীতি গ্রহণ করেছে। এগুলো হলো:-
১. বিএনপির সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়:নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগ কোনরকম আলোচনা করবে না। বিশেষ করে নির্বাচনকালীন সরকার বা নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইত্যাদি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার কোনো সুযোগ নেই বলে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, শুধুমাত্র যদি বিএনপি নির্বাচনে আসার ঘোষণা দেয় তখনই বিএনপির সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে কোনো রকম আলাপ আলোচনা করতে পারে। কিন্তু নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন বা নির্বাচন ঘোষণা বা নির্বাচনে আনার জন্য বিএনপির সাথে কোন রাজনৈতিক সমঝোতায় আওয়ামী লীগ যাবে না।
২. আইনের ব্যত্যয় ঘটাবে না: বিএনপির পক্ষ থেকে এখন জেল-জুলুম ইত্যাদি নিয়ে কথাবার্তা বলা হচ্ছে। বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতার, হয়রানির অভিযোগ উঠছে। তাদের বিরুদ্ধে নানারকম হয়রানিমূলক মামলা দেয়া হচ্ছে এমন অভিযোগ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারেও আওয়ামী লীগের অবস্থান ‘না’। আওয়ামী লীগ বলে দিয়েছে যে আইন তার নিজস্ব গতি চলবে। অপরাধীদের জন্য রাজনৈতিক সমঝোতার স্বার্থে আইনের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধী যেই হোক তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং তার ব্যাপারে আইনের বিধি বিধানকে মেনে চলতে হবে। কারণ বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা স্বাধীন। এখানে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ সরকার করবে না।
৩. নির্বাচন কমিশনের পরিবর্তনের না: বিএনপির পক্ষ থেকে বর্তমান নির্বাচন কমিশন ভেঙ্গে সকলের সাথে আলোচনা করে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশনের দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। এই দাবিকেও আওয়ামী লীগ নাকচ করে দিয়েছে। আওয়ামী লীগ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সুস্পষ্টভাবে বলা হচ্ছে যে নির্বাচন কমিশন গঠন হয়েছে বর্তমান সংবিধানের অধীনে। কাজেই এই নির্বাচন কমিশনকে এখন পরিবর্তন করা বা বিএনপির দাবি অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের মতো একটি সাংবিধানিক পদে কোনো সুযোগ নেই।
৪. তারেক জিয়ার ব্যাপারে না: বিএনপির পক্ষ থেকে একটি বড় দাবি হল যে তারেক জিয়ার মামলা প্রত্যাহার এবং তাকে দেশে আসার সুযোগ দেওয়া এবং তার সঙ্গে একটি সমঝোতা করা। কিন্তু সরকার এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। সরকার বলে দিয়েছে যে সরকার আর যাই করুক তারেক জিয়ার সাথে কোন রকম সমঝোতা করবে না। তারেক জিয়া যদি দেশে আসতে চায় তাহলে তাকে আইনি বাধ্যবাধকতা গুলো মেনে চলতে হবে। তারেক জিয়াকে দেশে আসার পথে কোন বাধা নেই। বরং সরকারই চায় তারেক জিয়া দেশে আসুক এবং  আইনের আওতায় যেন তারেক আত্মসমর্পণ করে এবং আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে নিজের অবস্থান প্রমান করার চেষ্টা করে।
৫. জামায়াতের সাথে না: বিএনপির সঙ্গে যেমন আওয়ামী লীগ কোনো সমঝোতা করবে না তেমনি জামায়াতকে কোন আশ্রয় প্রশ্রয় দেবে না। মূলত জামায়াত এখন বিএনপির পৃষ্ঠপোষকতায় ভিন্নরূপে আন্দোলন সংগ্রাম এবং নির্বাচন করতে চাইছে। সরকারের সাথে একটি সমঝোতায়ও আসতে চাচ্ছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সরাসরি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে জামায়াতের সঙ্গে কোনো রকম সমঝোতায় সরকার যাবে না।
এই পাঁচ ‘না’ এর অবস্থানে থেকে আওয়ামী লীগ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পথে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন এটাই তাদের জন্য প্রধান এবং সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
তথ্যসূত্র : বাংলা ইনসাইডার


নিউজ টি শেয়ার করুন..

সর্বশেষ খবর

আরো খবর