আজ রবিবার। ৩রা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ। ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ। ২১শে শাবান, ১৪৪৫ হিজরি। এখন সময় সকাল ৬:২০

চাঁদা না পেয়ে কাজ আটকে দিল ছাত্রলীগের ২ নেত্রী

চাঁদা না পেয়ে কাজ আটকে দিল ছাত্রলীগের ২ নেত্রী
নিউজ টি শেয়ার করুন..

রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্স কলেজে (পুরোনো হোম ইকনোমিক্স কলেজ) চাঁদা না দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির শেখ হাসিনা হলের সংস্কারকাজ বন্ধ রাখার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শারমিন সুলতানা সনি সাধারণ সম্পাদক আকলিমা আক্তার প্রভাতী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি করে হলের সংস্কারকাজ বন্ধ রেখেছেন৷ যদিও ছাত্রলীগ নেত্রীদ্বয় তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন৷

এদিকে সংস্কার কাজ বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন হলের আবাসিক সাধারণ শিক্ষার্থীরা৷ কলেজটির একমাত্র শেখ হাসিনা আবাসিক হলটি তিনতলা বিশিষ্ট৷ তবে হলের ভবন সংখ্যা তিনটি৷ নম্বর ভবনে সংস্কার কাজ শুরু হয়েছিল৷ ভবনটিতে ছাত্রীদের থাকার কক্ষে রং করা হয়েছে। বারান্দা দরজাসহ বাইরের দেয়ালের রঙেয়ের কাজ বাকি৷ সিঁড়িতে টাইলসের কাজ আংশিক করে ইট, টাইলসের ভাঙা টুকরো, বালু, সিমেন্টসহ নির্মাণসামগ্রী যততত্র ফেলে রাখা হয়েছে৷

হলের ওই ভবনের অধিকাংশ টয়লেট বন্ধ থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা৷ হলটিতে প্রতি তলায় ৭৮ জন শিক্ষার্থী থাকেন৷ এসব শিক্ষার্থীর ব্যবহারের জন্য প্রতি তলায় চারটি টয়লেট রয়েছে এরমধ্যে দুটি টয়লেট পুরোপুরি বন্ধ। যে দুটি চালু রয়েছে সেখানেও একটির পয়োনিষ্কাশন পাইপ ছোট হওয়ায় মাঝেমধ্যেই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে এসব কারণে স্বাস্থ্য ঝুকিতেও রয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হলের এক শিক্ষার্থী বলেন, শুনেছি ছাত্রলীগের সঙ্গে ঠিকাদারের ঝামেলা হয়েছে। কারণেই নাকি কাজ বন্ধ৷ অর্ধেক কাজ করে ফেলে রেখেছে। আমাদের খুব সমস্যা হচ্ছে৷

কলেজটির অবকাঠামো উন্নয়নকাজ পরিচালিত হয় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে৷ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের এক সহকারী প্রকৌশলী বলেন, কিছু ইন্টারনাল সমস্যার কারণে কাজ বন্ধ আছে। ঈদেরপরে আমরা কাজ শুরু করতে পারিনি৷ সেখানে উনাদের (ছাত্রলীগের) কিছু দাবিদাওয়া আছে। যা ঠিকাদার ঠিকভাবে মিটাতে পারছেন না অথবা উনারা (ছাত্রলীগ) যেরকম ভাবে চাচ্ছেন ঠিকাদার সেভাবে রাজি হচ্ছেন না৷ সেসব কারণে কাজ করা যাচ্ছেনা৷

সহকারী প্রকৌশলী আরও বলেন, কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি৷ আমার প্রকৌশলীও আলোচনা করেছেন৷সেখানকার স্টুডেন্ট লিডারদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে৷ উনারা (ছাত্রলীগ) আলোচনায় বসতে বলেছেন। আমার ইঞ্জিনিয়ার কলেজ কর্তৃপক্ষ ছাড়া আলোচনায় বসবেন না বলে তাদের জানিয়েছেন। বসলে কলেজ প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়েই বসতে হবে৷ তবেসেই বসাটা মনে হয় এখনো হয়নি।

প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ প্রফেসর সোনিয়া বেগম বলেন, আমরা ঈদের আগেই রমজানে কাজটা শেষ করে ফেলতে চাচ্ছিলাম।ঠিকাদার বলেছেন, তিনি কাজ করতে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছেন। মেয়েদের (কলেজ শাখা ছাত্রলীগের) কাছ থেকে ডিস্টার্ব ফিল করছেন।মেয়েদের যখন বললাম, আমিও তো চাচ্ছি যে কাজটা হয়ে যাক তখন মেয়েরা বললো– ‘আপা আপনি চিন্তা কইরেন না, ঈদের পর এসে ওরা কাজ শুরু করবে৷আমি বলেছি, যাই করো বন্ধের মধ্যে যেন কাজটা শেষ হয়ে যায়৷ যেন ছাত্রীরা কলেজ খোলারপর হলে এসে অসুবিধায় না পড়ে।

এর আগেও আরেক ছাত্রলীগ নেত্রীকে মারধর করার অভিযোগ রয়েছে ।তার ল্যাপটপ সহ গুরুত্বপূর্ণ জিনিস জব্দ করারও অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ।

নিউজ টি শেয়ার করুন..

সর্বশেষ খবর

আরো খবর