আজ রবিবার। ৩রা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ। ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ। ২১শে শাবান, ১৪৪৫ হিজরি। এখন সময় ভোর ৫:২০

কংগ্রেসম্যানদের নামে ভুয়া চিঠি: প্রতারণা এবং জালিয়াতি

কংগ্রেসম্যানদের নামে ভুয়া চিঠি: প্রতারণা এবং জালিয়াতি
নিউজ টি শেয়ার করুন..

সরকারকে কোণঠাসা করতে এখন বিভিন্ন মহল নানা রকম গুজব এবং প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে। নানা রকম মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। সাম্প্রতিক গত ১১ মে ছয় জন মার্কিন কংগ্রেসম্যানের লেখা একটি তথাকথিত চিঠি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। জো বাইডেনের কাছে লেখা এই চিঠিতে সরকারের বিরুদ্ধে নানা রকম অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে এবং এই অভিযোগের ভিত্তিতে কংগ্রেসম্যানরা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করেছেন। কিন্তু বাস্তবে অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, যাদের নামে এই চিঠি দেওয়া হয়েছে তারা কেউই এই চিঠিতে স্বাক্ষর করেননি বা এই চিঠিটি তারা দেননি।

এই চিঠিতে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন কংগ্রেসম্যান স্টক পেরি, ব গুড, ব্যারি মুর, টিম বারচেট, ওয়ারেন ডেভিডসন, কিথ সেলফ্। তাদের সঙ্গে ই-মেইলে যোগাযোগ করে জানা গেছে যে, এ ধরনের কোনো চিঠিতে তারা স্বাক্ষর করেন নাই বা এধরনের কোন বিষয়ে তারা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অবহিত করেননি। এটা তাদের কাজ নয় বলেও তারা পৃথক পৃথকভাবে উল্লেখ করেছেন। এই চিঠিটি একটি চিঠি ভুয়া চিঠি এবং এই ব্যাপারে কংগ্রেসম্যানরা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন বলেও জানা গেছে।

উল্লেখ্য যে মার্কিন কংগ্রেসম্যানদের নাম ব্যবহার করে, তাদের স্বাক্ষর জাল করে, বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই চিঠিটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বলা হচ্ছে যে সরকারের উপর আরও নিষেধাজ্ঞা আসবে। শুধু এই ধরনের চিঠি নয়, আরও অনেক ধরনের প্রতারণাই হচ্ছে। তবে কংগ্রেসম্যানদের কর্মকাণ্ড যদি কেউ পর্যালোচনা করেন এবং  কংগ্রেসম্যানরা কি কাজ করেন না করেন সে সম্পর্কে যদি কেউ খোঁজ খবর রাখেন তাহলে সেক্ষেত্রে তারা জানেন যে কংগ্রেসম্যানরা এ ধরনের আক্রমণাত্মক এবং উদ্ধত ভাষায় চিঠি দেন না। তাছাড়া এ চিঠির মধ্যে অনেকগুলো ব্যাকরণিক ভুল রয়েছে এবং চিঠির ইংরেজি মধ্যে অনেক সমস্যা রয়েছে। এখানে কূটনৈতিক ভাষা ব্যবহার করা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে বিএনপির কোন কোন মহল এই প্রতারণা এবং জাল চিঠি তৈরি করেছে এবং শেষ পর্যন্ত যদি প্রমাণ পাওয়া যায় যে কারা এটি করেছেন তাদের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রশাসন ব্যবস্থা নিবেন বলে জানা গেছে।

শুধু এই চিঠির গুজব নয়, আরও বিভিন্ন ক্ষেত্রেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে নানারকম গুজব এবং মিথ্যাচার ছড়ানো হচ্ছে। কার ভিসা বাতিল হয়েছে, কাকে ভিসা দেয়া হয়নি ইত্যাদি নানা রকম গুজব এবং মিথ্যাচারের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন সয়লাব হয়ে গেছে। বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে নতুন ভিসা নীতি চালু করেছে সেই ভিসা নীতি কার্যকর হবে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরুর পর। কিন্তু বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত নির্বাচনের তফসিলই ঘোষণা করা হয়নি। কাজেই কে ভিসা পেল, কাকে আমেরিকায় যেতে দেওয়া হলো না এ ধরনের অবাস্তব তথ্য গুলোকে ছড়িয়ে এক ধরনের ভীতিকর পরিবেশ তৈরী করা হচ্ছে, এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখন এই ধরনের গুজব এবং মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মার্কিন প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাবে বলেও জানা গেছে।


নিউজ টি শেয়ার করুন..

সর্বশেষ খবর

আরো খবর